রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলাহুল উম্মাহ: আদর্শ, আধুনিকতা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য পাঠশালা সাঁথিয়ায় ভ্যান চালককে পিটিয়ে আটোভ্যান ছিনতাই বেড়ায় বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমি দস্যু দখলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে মিলছে না সমাধান বেড়ায় পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় এসএসএস-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সাঁথিয়া দোকান এবং বাড়িতে একমাসে তিনবার আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় পুরো পরিবার বেড়ায় চায়না দুয়ারি জাল কারখানায় অভিযান, ১০ লাখ টাকার জাল ও সরঞ্জাম জব্দ বেড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা ও বিক্রির অপরাধে ফার্মেসিকে ভ্রাম্যমাণে জরিমানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৮৯ পেল সাঁথিয়ার কলি বেড়ায় বিষধর সাপের কামড়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

স্কুলে চুলের কাটিং দিয়ে নোটিশ, না মানলে সাজা, প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও রিজু তামান্না

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

নাছির হোসাইনঃ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ সুনির্দিষ্ট করে প্রশংসায় ভাসছেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও দেশের প্রথমসারির জাতীয় দৈনিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাই । এছাড়াও মানুষের সেবায় শিক্ষার মানোন্নয়নে সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গসহ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন প্রশংসিত কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।
জানা যায়, গত (০৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সাঁথিয়ায় উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্ধারিত মডেলের বাইরে চুল কাটলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। ওই নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নোটিশে প্রদর্শিত ছবির আদলে চুল ছেঁটে এবং হাত-পায়ের নখ কেটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। নোটিশে চারদিক থেকে তোলা একটি শিশুর চুলের কাটিংয়ের ছবি যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যা অনেকটা ‘আর্মি কাট’ সদৃশ।
স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সকল অভিভাবক বিষয়টি কে ইতিবাচক শৃঙ্খলার অংশ বললেও দুএকজন বিষয়টিকে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ হিসেবে দেখছেন।
সচেতন মহলের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সকল ক্ষেত্রেই হওয়া উচিৎ। ঢাকার নামি স্কুলগুলোতে ড্রেস কোড এবং চুলের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুন্দর পোশাক রুচি মার্জিত চুলের কাটিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করবে বলে মনে করেন তারা।
উক্ত বিদ্যালয়ের পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সেলিম রেজা জানান, ছেলে-মেয়েদের মানুষের মত মানুষ করতে মা-বাবার পাশাপাশি শিক্ষকদের ভূমিকা বেশি। আমার ছেলেকে ছোট করে চুল কাটতে বলা হলে এতে সে বিরক্তবোধ করে। গতকাল স্কুলে নোটিশ দেখে এসে সুন্দর করে চুল কেটে পরিপাটি হয়ে এসেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত কে আমরা সাধুবাদ জানাই।
এক অভিভাবক জানান, শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু চুলের কাটিং নিয়ে শাস্তির হুমকি দেয়াটা হুমকি নয় বরং শাসনের মধ্যে দেখা উচিৎ। গুরুজনদের শাসন শিক্ষার্থীদের আশীর্বাদ হিসেবে অভিভাবকদের দেখা উচিৎ। ইউএনও মহোদয়ের এমন সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
উপজেলার পুন্ডুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনসুর আলম খোকন জানান, ‘যেমন একজন সৈনিকের পরিচ্ছন্ন হেয়ার কাট তার শৃঙ্খলা, প্রস্তুতি ও আত্মসম্মানের প্রতীক,তেমনি একজন ছাত্রের পড়ালেখা তার জ্ঞান, ভবিষ্যৎ ও ব্যক্তিত্বের ভিত্তি। দুটোই শুধু বাহ্যিক নয় ভেতরের ভদ্রতা, দায়িত্ববোধ আর আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রকাশ। চুলের কাটিং এর উপর গড়ে ওঠে বাচ্চাদের মনমানসিকতা ও বাহ্যিক আচরণ। তাই এ বিষয়ে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার জরুরি।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি কোনো অন্যায় চাপ নয় বরং প্রশাসনিক নির্দেশনারই প্রতিফলন। তবে শাস্তির কথা ওভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, এটা মূলত ছাত্রদের নিয়ম শৃঙ্খলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলার উদ্যোগের একটি অংশ। বর্তমানে ছাত্রদের চুল বড় রাখতে দেখা যায়। একটা স্কুলের ছাত্রদের চুল বড় রাখা ঠিক নয়।
ইউএনও আরও জানান, এটা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, ছাত্রদের চুল ছোট ছোট থাকবে যেটা হাত দিয়ে ধরা যাবে না। প্রতি সপ্তাহে নখ কাটবে, পোশাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে। তাই এই বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে ইতিবাচক হিসেবে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের পরিস্কার পরিছন্ন থাকার কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। মৌখিকভাবে বলা যেতেই পারে তবে নোটিশের বিষয়টি একটু ভিন্ন হয়েছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নেয়া যেতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews
error: Content is protected !!