
আরিফ খান : প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে পাবনার বেড়া উপজেলায় আবারও আধিপত্য দেখিয়েছে আলহেরা একাডেমি। উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্যালেন্টপুলে মোট ২৫টি বৃত্তির মধ্যে ২১টিই অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ গ্রেডে আরও ২১টিসহ মোট ৪২টি বৃত্তি পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরের মতোই উপজেলার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার ট্যালেন্টপুলে ২৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৩৭ জনসহ মোট ৬২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, আলহেরা একাডেমি ট্যালেন্টপুলে ২১টি এবং সাধারণ গ্রেডে ২১টিসহ মোট ৪২টি বৃত্তি অর্জন করেছে। এছাড়া গ্যালাক্সি স্কুল ট্যালেন্টপুলে ২টি ও সাধারণ গ্রেডে ২টিসহ মোট ৪টি, কাশিনাথপুর বিজ্ঞান স্কুল ট্যালেন্টপুলে ১টি ও সাধারণ গ্রেডে ৫টিসহ মোট ৬টি এবং মাশুন্দিয়া বিজ্ঞান স্কুল ট্যালেন্টপুলে ১টি ও সাধারণ গ্রেডে ১টিসহ মোট ২টি বৃত্তি পেয়েছে।
সাধারণ গ্রেডে আরও বৃত্তি পেয়েছে বেড়ার অগ্রগামী বিদ্যানিকেতন (২টি), মিলেনিয়াম স্টার (১টি), চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কুল (১টি), নগরবাড়ির এসি বোস শিশু নিকেতন (১টি), কাশিনাথপুরের শান্তি নিকেতন কিন্ডারগার্টেন (১টি) এবং মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কিন্ডারগার্টেন (১টি)।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ট্যালেন্টপুলে অর্জিত ২৫টি বৃত্তির মধ্যে ২১টিই আলহেরা একাডেমির ঝুলিতে গেছে, যা মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ। ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
অন্যদিকে ফলাফলকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন অভিভাবকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে মাসিক উচ্চ টিউশন ফি, কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করার পরও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। তাদের ভাষ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এবার ভালো ফল করেছে, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
জানা গেছে, বেড়া উপজজেলায় প্রায় ১৭০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অথচ আলহেরা একাডেমি ছাড়া অন্য সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ট্যালেন্টপুলে মাত্র ৪টি বৃত্তি অর্জিত হয়েছে। ফলে উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেক নেটিজেনের মতে, অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় ভবিষ্যতে অভিভাবকদের একাংশ সন্তান ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে পারেন।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকার বদ্ধ পরিকর। তাই সরকার ৮০ শতাংশ বৃত্তি বরাদ্দ করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য। বাকি ২০ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের জন্য। তবে বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।