সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাঁথিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রাম্য সালিসে ২০ জুতার বাড়িতে দফারফা বেড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান: ৫ যুবককে কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রাথমিক বৃত্তিতে আলহেরা একাডেমির দাপট, বেড়ায় ২৫ ট্যালেন্টপুলের ২১টিই আলহেরা! সাঁথিয়ায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে ভষ্মীভূত, প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি পাবনায় সুস্থ ব্যাক্তিকে অসুস্থ দেখিয়ে অনুদানের অর্থ আত্মসাতে অফিস সহকারীর সিন্ডিকেট বেড়ায় শতাধিক রোগীকে অর্থোপেডিক চিকিৎসা প্রদান ৪৬ বছর পেরিয়ে ৪৭ বছরে বেড়া প্রেস ক্লাব: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সাঁথিয়ার সেই স্কুলকে সংবর্ধনা জাতসাখিনী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে আজাদুর রহমান সাঁথিয়ার চিকিৎসকের অবহেলায় যুবকের মৃত্যু 

সাঁথিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রাম্য সালিসে ২০ জুতার বাড়িতে দফারফা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

আরিফ খান : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিসে ২০টি জুতার বাড়ি দিয়ে রফাদফার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ওই গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।

ঘটনার দিন ওই প্রতিবন্ধী নারীকে বাড়িতে একা রেখে তাঁর মা পাশে তাঁর ছেলের বাড়িতে যান। এই সুযোগে মহব্বত আলী ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী নারীর গোঙানি ও চিৎকার শুনে তাঁর মা ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে মহব্বত আলী পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল চার দিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় হারিয়াকাহন এলাকার ইউপি সদস্য (মেম্বার) মালেকের বাড়ির উঠানে এক গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, গৌরীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, ইউপি সদস্য মিল্টন, আরশেদ আলী ও মালেক মেম্বারসহ স্থানীয় মাতব্বরেরা এই সালিস বৈঠকের নেতৃত্ব দেন। সালিসে অপরাধ স্বীকার করায় অভিযুক্ত মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। সেখানেই এই প্রহসনের বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধকে জুতার বাড়ি দিয়ে মীমাংসা করা দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। ভুক্তভোগী পরিবারটি সরল ও আইন সম্পর্কে কম বোঝায় জনপ্রতিনিধিরা সালিসের নামে এই নাটক করেছেন। এ ঘটনায় সালিসকারীদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।

ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারীর দুলাভাই মহরম আলী বলেন,”মহব্বত এর আগেও দুই জায়গায় একই অপরাধ করেছে। আমার শ্যালিকার ঘটনায় শনিবার সালিস বসার কথা থাকলেও আসামি আসেনি। রোববার সালিসের শুরুতে আসামিকে ৭টি জুতার বাড়ি ও জুতার মালা পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে টাকা খেয়ে ম্যানেজ হওয়া কয়েকজন মাতব্বরের কথায় শুধু ২০টি জুতার বাড়িতে রফাদফা করা হয়। এতে আসামির মামাশ্বশুর নাসির খাঁও জড়িত আছেন।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ইজ্জতহানির বিচার কি শুধু ২০টি জুতার বাড়ি? আমি এই অন্যায় রায় না মেনে সালিস থেকে চলে এসেছি। আমাদের থানায় যেতে এখনো বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোনো টাকা-পয়সা চাই না, অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই। সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব।”

সালিস বোর্ডে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বলেন, “আমি এই আইনটি জানি না। ওটা আমার ওয়ার্ডও না। চেয়ারম্যান সাহেব ডাকছিলেন, তাই গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান সাহেব সবকিছু ভালো জানেন।”

গৌরীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, “ওই ছেলে অপরাধ স্বীকার করেছে। এই অপরাধ সালিসে বিচার করার আইন যে নেই, তা আমি জানি। কিন্তু দুই পক্ষ বসে সমাধান করতে চেয়েছিল বলেই সালিসটি করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিষয়টি জানার পর তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিসে করার সুযোগ নেই। আইন অমান্য করে চেয়ারম্যান ও অন্যরা কেন এটি করলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর নজরে এসেছে। এরপরই তিনি ওসিকে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি যাতে সঠিক বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews
error: Content is protected !!