
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাবনার বেড়া উপজেলার ত্রিমোহনী বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা কারবারি মো: জনিসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ৯:০০ টা থেকে সাড়ে ১১:৩০ টা পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। আমিনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও এসআই আবদুল লতিফসহ পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযানে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করে।
আদালত সূত্র জানায়, ত্রিমোহনী বাজারের তালিমনগর প্রাইমারি স্কুলের পাশে লুৎফর রহমান লুটু মেম্বারের বাসা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার ব্যবসা চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তরা প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে লুৎফর রহমান লুটুর ছেলে মো: জনির বসতবাড়িতে আকস্মিক হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। তল্লাশিকালে ওই বাড়ি থেকে ইয়াবা সেবন, ব্যবহার ও পরিবহনের বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জনি নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি গত তিন মাস ধরে ওই এলাকায় নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারা মোতাবেক প্রধান আসামী মো: জনিকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযানে মূল মাদক কারবারি জনির পাশাপাশি একই সময়ে মাদক সেবন ও ব্যবহারের অপরাধে সুধান হালদার ও রানা খান নামে আরও দুইজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় আদালত সুধান হালদারকে ৩ মাস এবং রানা খানকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এবং জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর ও কড়া নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দণ্ডিতদের রাতেই সাজা পরোয়ানাসহ জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে আমিনপুর থানা পুলিশ।