
আরিফ খানঃ পাবনার সাঁথিয়ায় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির দোকান এবং বাড়িতে একমাসে পরপর তিনবার আগুন নিরাপত্তাহীনতায় পুরো পরিবার।
ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাতে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের বড়গ্রাম তার বাড়িতে। তবে এ ঘটনায় পূর্বে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেনি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বড়গ্রামের আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সার কীটনাশক ঔষধ, মুদিখানা এবং ডেকোরেটরের ব্যবসা করে আসছিল আতোশোভা বাজারে। এবং তার একটি নিজস্ব ট্রাক ও আছে। ঐ ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন তার প্রতিবেশী সিয়াম (৩৫)। ওই ট্রাকের তেল এবং যন্ত্রাংশ চুরির দায়ে গত মাসের ৯ তারিখ সালিশি বৈঠক হয় সিয়ামের বিরুদ্ধে। সালিশের রায় অনুযায়ী অভিযুক্ত সিয়াম কে কিছুদিনের মধ্যে জরিমানার ৬৭ হাজার টাকা দেয়ার কথা হয়। এতে সিয়াম ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যায়। ঐরাতে আলমগীর এর কীটনাশক ও ডেকোরেটর দোকানে আগুন সিয়াম দিয়েছিল বলে দাবি আলমগীরের।
ঐরাতে দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দোকানে থাকা প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন আলমগীর।
এরপর ২৪ জুলাই রাত ১ টার দিকে তার বসত বাড়িতে একটি পেঁয়াজ রাখার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। এ ঘটনার পর মামলা অজু হয় সাথীয়া থানায়।
সর্বশেষ (১৪ আগস্ট) শুক্রবার দিবাগত রাতে আবারও আরেকটি ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা । আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরে রাখা দুটি মোটরসাইকেল, ৩ টি পানির পাম্প ঘরে রাখা পেঁয়াজ, ঘরের আসবাবপত্র সহ প্রায় সব মালামাল পুরে ভস্মিভূত হয়েছে। এতেও প্রায় ১০ লাখাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন জানান, দোকান এবং বাড়ির মালামাল ও বাড়িঘর মিলে আমার প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে । পরপর তিনবার আগুন দেওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আগুন দেওয়া হচ্ছে রাত্রে সুপরিকল্পিতভাবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত সিয়াম ও অন্য কাউকে আটক করেনি। পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে জানা তিনি।
সাঁথিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, দোকানে আগুনের পর বাড়িতে আগুন এটা উদ্বেগের বিষয়। ঘটনায় মামলা হয়েছে মামলা তদন্তাধীন আছে।