
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পেঁয়াজ চাষিরা চলতি মৌসুমে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরাসরি সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা—পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় এবার উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কৃষকরা জানান, বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। অথচ বাজারে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা। ফলে প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। মৌসুম শেষে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও কৃষকরা তার সুফল পান না; বরং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই লাভবান হন। অন্যদিকে, মৌসুম চলাকালে কম দামের কারণে কৃষকদের বাধ্য হয়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি’ সংগঠনটি বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান, বীজ, সার ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যে সরবরাহ, প্রত্যেক এলাকায় আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপন, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর কমিশন গঠন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে পাবনার বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে সকাল ১১টায় সমাবেশ এবং একই দিন দুপুর ১২টায় সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল আলীম বলেন, “বাংলাদেশ কৃষকের দেশ—কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাজার ব্যবস্থাপনার সংস্কার, সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষকদের জন্য সরাসরি প্রণোদনা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরই কৃষকরা একই সংকটে পড়বেন এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পেঁয়াজ চাষিদের এই সংকট শুধু একটি পণ্যের বাজার সমস্যা নয়; এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।