
নাছির হোসাইনঃ প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ৬৮,পাবনা-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে কথার লড়াইয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপ আরও বেড়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী, এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘটনায়।
স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর অধ্যাপক আবু সাইয়িদ জামায়াত প্রার্থী ও প্রয়াত জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমানকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণাও দিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মোমেন অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে দলে নিয়ে বিএনপি ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহতের ঘোষণাও দেন।
সীমানা জটিলতা নিরসনের পর নতুন তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পাবনা-১ ও ২ আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
নিজ দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বুঝে নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতার নামে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ছিল। সেটির অবসান হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ফ্যাসিবাদের দোসর অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে নির্বাচনী মাঠে নামিয়ে পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চলছে। আগামি ৩১ জানুয়ারি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা গণমানুষের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে জনরোষ সৃষ্টি হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান অভিযোগগুলো নাকচ করে বলেন, ‘অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ফ্যাসিবাদী নন। তিনি দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী দল থেকে দূরে ছিলেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনও করেছেন। একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না এমন হুমকি দুঃসাহসিক। তার যোগদানে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত প্রার্থী নানা চক্রান্ত করলেও জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি বিজয় অর্জন করবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণা হলেও সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত ছিল। সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি এই দুই আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন তফসিলে পাবনা-১ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে চ‚ড়ান্তভাবে বিএনপির শামসুর রহমান, জামায়াতের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল গনি প্রতীক বরাদ্দ পান।
পাবনা-২ (বেড়া-সুজানগর) আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও গণফোরামের পাঁচজন প্রার্থী বৈধতা পাওয়ার পর নিজ নিজ দলীয় প্রতীক পেয়েছেন। তবে এ আসনে তেমন উত্তেজনার খবর এখও পাওয়া যায়নি।