কাশিনাথপুর প্রতিনিধি: অল্প সময়ের পথচলায়ই চমক দেখালো কাশিনাথপুরের ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমি ও ক্যাডেট মাদরাসা। এবতেদায়ী (৫ম শ্রেণি) বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। জানা যায়, অংশগ্রহণকারী ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জনই বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ছেলেদের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে শোয়াইব হাসান সাদ এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে তাসকিয়া আমিন। ট্যালেন্টপুলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে আবু তালহা ও জিনাত বিন সিফাত।
এছাড়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে তানিশা ইসলাম, আতিকা হুসনা, আবু তালহা শাবাব, আল গালিব, আলিফ ওয়াহীদ ও রাইম রাইয়ান সিদ্দিকী। নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন ফলাফল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাদ বিন আব্দুর রউফ বলেন, “সাধারণ ও ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত আমাদের প্রতিষ্ঠানের বয়স মাত্র তিন বছর। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবারের মতো বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েই শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডক্টর মুস্তাফীজুর রহমান খান বলেন, “কাশিনাথপুরে অবস্থান করলেও ইসলাহুল উম্মাহকে আমরা জাতীয় মানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।”
উপজেলায় প্রথম হওয়া শোয়াইব হাসান সাদের বাবা অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ও তাসকিয়া আমিনের মাতা স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন জানান, "ইসলাহুল উম্মাহ'র শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হওয়ার এই আনন্দকে আমরা ইসলাহুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদরাসাকে উৎসর্গ করলাম।"
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, নতুন প্রতিষ্ঠানের এ অভাবনীয় সাফল্য এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনে ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমির এ অর্জন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।